ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ? – ১

বাংলাভাষী আলেমদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম ডক্টর খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির।

সুবক্তা, সুলেখক হিসেবে পরিচিত, আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সাবেক কর্ণধার আল্লাহ’র ইচ্ছায় কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আল্লাহ্‌ তা’আলা উনাকে ক্ষমা করুন। আমীন।

মরহুম শায়খের লেখা “ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ” বইটি জামাতপন্থী, আধুনিক মানসিকতার মুসলিম ও কিছু সালাফি ভাইদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় ও রেফারেন্স বুক হিসেবে প্রসিদ্ধ।

শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্যই এই বইয়ে শায়খ কর্তৃক উল্লেখিত কিছু তথ্যগত ও ইলমি ত্রুটি-বিচ্যুতি ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মুসলিমেরা বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকতে পারেন।

মরহুম শায়খকে হেয় করা কারো উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে আশ্রয় চাই।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের প্রতিটি কাজ ইখলাসের সাথে আঞ্জাম দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

বইটির ভূমিকায় মরহুম লেখকের (ড. খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির) শ্বশুর ফুরফুরা পীর সাহেব লিখেছেন,
“বিড়ালকে অভুক্ত বেঁধে রাখার জন্য কঠিনতম নিন্দা জানিয়েছেন যে মহানবী সাঃ তাঁর উম্মতের কেউ ইসলামের নামে মানুষ খুন করতে পারে একথা কল্পনাও করতে পারি না।” (ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, পৃষ্ঠা ৩)

.

.
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,
“অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর।
আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।“ [সুরা তাওবা: ৫]
.
 “তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়।“ [সুরা বাকারাঃ ২১৬] .
উপরোক্ত আয়াত দুটি ছাড়াও কুর’আনের কয়েক’শ আয়াত ও সহস্রাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত শুধুমাত্র ইসলামের নামেই মানুষ হত্যা করা জায়েজ বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের ফরজ ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত।
 .
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আমিরুল ইত্তিহাদ এটা জানবেন না, এটা মনে করা উনার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা বৈ অন্য কিছুই নয়।
 .
ধরে নেয়া যাক, উনি ‘ইসলামের নামে খুন’ বলতে কুর’আনের আয়াত ও হাদিসের ভুল ব্যখ্যা করে অন্যায়ভাবে শারিয়া বহির্ভূত হত্যা করাকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু দেখুন, সাধারণভাবে উনার এই কথা আম মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে পারে যে, ইসলামে হত্যা বলতে কিছুই নেই।
 .
উনার এই উক্তিটি ভুল হিসেবে উল্লেখিত করা হচ্ছে না। বরং, ইসলামে হত্যা বলতে কিছুই নেই এমন চুড়ান্ত ভ্রান্ত ধারণা যাতে সাধারণের মস্তিস্কে ঠাই না পায় তা পরিষ্কার করাই ছিল উদ্দেশ্য।
 .
কেননা কোনো ব্যক্তি যদি শুধু যুদ্ধ ও হত্যা সংক্রান্ত আয়াত/হাদিস সামনে এনে ঘোষণা দেয় যে, “ইসলামে ক্ষমা ও শান্তি বলে কিছু নেই, আছে শুধু যুদ্ধ”!
তবে কি তাঁকে ভ্রান্ত বলা হবে না?
 .
একজন ‘স্বনামধন্য’ আলেম ও উনার গুনমুগ্ধ অনুসারীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সাধারণ মানুষের কাছে বক্তব্য তুলে ধরার সময় শারিয়াহ’র কোনো আহকামের ব্যাপারে যাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে।

One thought on “ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ? – ১

  1. Pingback: ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ? – ৩ | নবধারা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *